
ভালো উপার্জনের আশায় ধারদেনা করে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন দিনাজপুরের আব্দুল গাফফার (৪২)। স্বপ্ন ছিল পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর। কিন্তু প্রবাসে নতুন কর্মজীবন শুরুর আগেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। মালদ্বীপে পৌঁছানোর পরদিন সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ট্রোকে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন গাফফারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আব্দুল গাফফারের বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কেত্রাহাট এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মো. আবু বক্কর মণ্ডল।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মালদ্বীপের উদ্দেশে রওনা হন গাফফার। সেখানে পৌঁছে রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি।
রাত আনুমানিক তিনটার দিকে ঘুম থেকে উঠে বুকে ব্যথা অনুভব করেন গাফফার। তবে কক্ষে থাকা অন্যদের আশ্বস্ত করে আবার ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। পরদিন ৭ অক্টোবর সকাল ছয়টার দিকে কক্ষে থাকা ব্যক্তিরা তাঁকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। পরে তাঁরা বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানান।
এরপর পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা গাফফারকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ট্রোকে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
গাফফারের নিকটাত্মীয় মো. আল আমিন জানান, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় ধারদেনা করে মালদ্বীপে গিয়েছিলেন গাফফার। কিন্তু উপার্জন শুরু করার আগেই তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
এদিকে গাফফারের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে তাঁর পরিবার।
হাইকমিশন জানিয়েছে, মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে গাফফারের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছে হাইকমিশন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।



